হাজার বছরের ঐতিহ্য

2018-06-20 20:56:01 Literature Hridom Hasan 88

এক গ্রামে এক নতুন মৌলানা আসলো। 

নতুন মৌলানা হিসাবে তাকে গ্রামের সবচেয়ে সম্পদশালী ব্যক্তি দাওয়াত করলো খাওয়ানোর জন্য !

সেই বাড়িতে একটি পোষা বিড়াল ছিল , বিড়ালটি সবার গা ঘেঁষে বসতো সবসময়। এতে কেউ কিছু বলতো না , কারণ বিড়ালটি সবার খুব আদরের ছিল !

বিশেষ করে খাওয়ার সময় গা ঘসাঘসি করতো মাছের কাটাকুটা খাওয়ার জন্য !

মৌলানা খেতে আসলে বিড়াল দেখেই তার পিলে চমকে উঠলো !

কারণ ছোটকালে এক বিড়ালে তাকে খামচি দেয়াতে তার বিড়ালের প্রতি ভীষণ ভয় ছিল !

কিন্তু মৌলানা কিছু বলতে পারছিল না এই ধনি ব্যক্তির বাড়িতে এই বিড়ালটি খুব আদরের বলে !

তো সে এক বুদ্ধি করলো, সে বাড়ির মালিককে বললো - আমরা যখন খেতে বসি তখন বিড়ালকে খাটের সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখাই ভালো !

কেউ একজন বললো - হুজুর কেনো ?

উত্তরে হুজুর বললো - বিড়াল বেঁধে রাখলে ফজিলত আছে !

তাছাড়া বিড়ালে অনেক সময় অন্য আত্মা ভর করে ! আর খাওয়া হলো ইবাদত , ইবাদতে বিড়াল কাছে না থাকাই ভালো !

হুজুরের কথামত বাড়ির মালিক বিড়াল বেঁধে রাখতে বললো !

সেই থেকে ঐ বাড়িতে মৌলানার খাওয়ার সময় বিড়াল খাটের সাথে বেঁধে রাখা হতো।

কিছুদিন যেতে না যেতেই এই খবর আশেপাশের বাড়িসহ গ্রামের সব বাড়িতেই এই খবর পৌঁছেগেল যে , হুজুর খাওয়ানোর সময় ঘরে বিড়াল খাটের সাথে বেঁধে রাখতে হয়, ফজিলত আছে !

গ্রামের খোলামেলা বাড়িতে কোথাও ভালো খাওয়া রান্না হলে গন্ধে আশেপাশের বাড়ির কুকুর বিড়াল সবসময় চলে আসে , এটাই নিয়ম !

তবে অনেক বাড়িতে বিড়াল ছিল না , তারা মসিবতে পরে যেত ! তারা তখন হুজুরকে খাওনোর সময় আশপাশের বিড়াল ধরে এনে খাটের সাথে বেঁধে রাখতো !

এটা ক্রমেই ট্রেডিশন হয়ে গেল।

গ্রামের ছেলেপুলেরা বড় হয়ে বাপদাদার এই ট্রেডিশন রক্ষা করতে লাগলো !

তারা অন্য গ্রামে বিয়ে সাদি করে আত্মীয়তা করে সেখানেও এই ট্রেডিশন চালু করে দিল !

সেই হুজুর মারা যাওয়ার পরেও এই ট্রেডিশন চলতে লাগলো , হাজার হলেও হুজুর বলেগেছেন ফজিলত আছে এতে !

এভাবেই এই নিয়ম হাজার বছরের ঐতিহ্য হিসাবে ওই এলাকায় হেরিটেজ হিসাবে চালু হয়ে যায় !