কেন সর্দি হয়?

2018-06-20 18:46:19 Health Mehedi Kennedy 128

সর্দি লাগেনি এমন মানুষ মনে হয়না পৃথিবীতে একটিও খুঁজে পাওয়া যাবে ।  “সর্দি” অন্যতম বিরক্তিকর একটি অসুখ ।আমরা সাধারণত যে সকল রোগে সবচেয়ে বেশী আক্রান্ত হই তার মদ্ধে সর্দির ভাইরাস অন্যতম । একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ বছরে কমপক্ষে ২ থেকে ৩ বার এবং একটি শিশু বছরে ৬ থেকে ১২ পর্যন্ত সর্দি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় । আর শীতকাল আসলে তো কথাই নেই । এসময় রোগটির প্রকোপ অনেক অংশে বেড়ে যায় ।

সর্দির ভাইরাস কণিকাগুলো দূষিত আঙ্গুল বা দূষিত বাতাস থেকে আমাদের নাকের ভিতর জমা হয়। অতি অল্প সংখ্যক ভাইরাস কণিকা (১-৩০) সংক্রমণের জন্য যথেষ্ঠ। এরপর ভাইরাস কণিকাগুলো নিজে নিজে নাকের ভিতরের adenoid নামক এলাকায় প্রবেশ করে।

ভাইরাস কণিকাগুলো অনুনাসিক কোষ পৃষ্ঠের উপর অবস্থিত রিসেপ্টর (ICAM 1) এর সাথে যুক্ত হয়। এই রিসেপ্টর ভাইরাস পৃষ্ঠের উপর ডকিং পোর্ট নামক অংশের সাথে মিশে যায়।

রিসেপ্টর এর সাথে যুক্ত হওয়ার পর ভাইরাস একটি কোষের মধ্যে সংক্রমণ হওয়া শুরু করে। এরপর সংক্রমিত কোষে নতুন ভাইরাস কণিকা উৎপাদন শুরু হয়। তখন সংক্রমিত কোষগুলোর মৃত্যু ঘটে। এভাবে নতুন কোষে ভাইরাস সংক্রমন ঘটে এবং নতুন নতুন ভাইরাস কণিকা উৎপাদিত হয়। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং এর ফলে আমরা সর্দিতে আক্রান্ত হই।

শীতকালে এবং গরমকালে সম্পূর্ণ অন্য ভাইরাসের কারণে সর্দি হয় | আগেই বলেছি শীতকালে রাইনোভাইরাসের কারণে সর্দি হয় | আর গরমকালে এন্টেরোভাইরাসের কারণে আমাদের ঠান্ডা লাগে | এন্টেরোভাইরাস এক ধরণের ভাইরাসের গ্রুপ যারা আমাদের নাকের‚ গলার‚ চোখের এবং ডাইজেস্টিভ সিস্টেমের টিস্যুকে আক্রমণ করে | এই বিশেষ ধরণের ভাইরাসের থেকে পোলিও ও হতে পারে | তবে পোলিওর টিকার কল্যাণে আজকাল আর পোলিও হয় না বললেই চলে | এন্টেরোভাইরাসের আক্রমণের ফলে অনেকের কিছুই হয় না আবার অনেকের গলা খুসখুস‚ জ্বর‚ গায়ে ব্যথা এবং বিভিন্ন নিঃশ্বাস সংক্রান্ত অসুবিধা দেখা দিতে পারে |

গরমকালে কারও কারও সর্দি হয়। আমরা চিন্তা করি, ঠাণ্ডা হাওয়া নেই তারপরও কেন সর্দি হয়। আসলে গরমকালে এন্টেরোভাইরাসের কারণে আমাদের ঠাণ্ডা লাগে। এটি এক ধরণের ভাইরাসের গ্রুপ যারা আমাদের নাকের‚ গলার‚ চোখের এবং ডাইজেস্টিভ সিস্টেমের টিস্যুকে আক্রমণ করে। এই বিশেষ ধরণের ভাইরাস থেকে পোলিওও হতে পারে। তবে পোলিওর টিকার কল্যাণে আজকাল আর পোলিও হয় না বললেই চলে। এন্টেরোভাইরাসের আক্রমণের ফলে অনেকের কিছুই হয় না আবার অনেকের গলা খুসখুস‚ জ্বর‚ গায়ে ব্যথা এবং বিভিন্ন নিঃশ্বাস সংক্রান্ত অসুবিধা দেখা দিতে পারে।

সর্দির যে উপসর্গ গুলা আছে যেমন, ঘন ঘন কাশি, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, গলা ব্যথা, জ্বর ইত্যাদি। এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব রেজিস্ট্যার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনে ঔষধ গ্রহণ করুন । তবে আমি আগেই বলেছি সাধারণত সর্দি ১ সপ্তাহের ভেররেই ঠিক হয়ে যায় । আমার মতে যদি ১ সপ্তাহের মদ্ধে আপনার সর্দি ঠিক না হয় তবেই দাক্তারের কাছে যাবেন ।