আহা শৈশব - জীবন থেকে নেয়া

2020-12-01 03:39:49 Literature Hridom Hasan 689

এস, এস সি পরীক্ষার প্রস্তুতি চলিতেছে, সবাই মনোযোগ দিয়া বিদ্যার্জনে ব্যস্ত,  তবে খানিক বিরতি দিয়া বিড়ি পান কোনভাবেই বাদ পরে না।চাতক আর টেনু অংকে অত্র অঞ্চলে বিশেষ পারদর্শী বলিয়া খ্যাত। তাহারা ইংরেজদের কষিয়া গালি দেয় আর রচনা গলাধকরন করিতে থাকে, আর আমি উপপাদ্য সম্পাদ্য নিয়ে নিদারুন কষ্টে পতিত।জ্যামিতি কে আবিস্কার করিয়াছে তাহা জানিতে পারিলে মশায়কে খুন করিয়া জেলের ঘানি টানা শ্রেয় বলিয়া মনে হইত। হঠাৎ আমাদের অধ্যায়ন কক্ষে মামুনের আগমন, সেও পরীক্ষার্থী বিরতিতে ধূমপান করিতে আসিয়াছে।সোনালি বিড়ির প্যাকেট লইয়া বাহির হইলাম। ও পাড়ার সালমান আর বাবলু আসিয়া উপস্থিত তাহারাও সোনালীর ছোঁয়া লইবে।সকলে মিলিয়া প্যাকেট শেষ করিতে লাগলাম ইত্যবসরে চাতক বলিল " অনেক গরম পড়িতেছে ডাব খাইলে মন্দ হইত না " প্রস্তাব লুফিয়া লইলাম, মামুনের নানীর গাছের ডাব খুবই সুস্বাদু তাহা হইলে আর বিলম্ব কিসের ? মুশকিল হইল আমাদের কেহ নারকেল গাছ বাহিতে পারিতাম না, একমাত্র টেনু এই কাজটি পারিত তবে সে গোঁ ধরিয়া বসিল, তাহাকে দুটি ডাব দিতে হইবে বাড়তি।

যাই হউক সে গাছে চড়িল, আমারা সবাই ডাবের জল পান করিতে অপেক্ষায় আছি। কেমন করিয়া জানি একটি ডাব হস্ত চুত্য হইয়া নীচে পতিত হইল, শব্দে সবাই বাহির হইয়া আসিল। আমরা দিলাম ছুট, বেচারা টেনু গাছে মরার মত বসিয়া রইল, সবাই ভাবিল বাতাসে শুকনা নারকেল পড়িয়াছে হয়তো ! আমরা ছুটিয়া এলাকার গোরস্থানে হাজির হইলাম, ঝামেলা এড়াইতে দেয়ালের অন্ধকার কোনে লুকাইয়া রইলাম। গাছে থাকা বন্ধুটির জন্যে চিন্তা হইতে লাগিল, সে ধরা পড়িলে সবাইকে ধরা পড়িতে হইবে এই যা।মামুন আমাদের মাঝে সবচেয়ে দীর্ঘকায় ছিল সে দেয়ালের ঐ পাশে কি আছে দেখিতে যাইয়া একদম স্থির হইয়া গেল, শুধাইলাম দোস্ত কি হইয়াছে ? তাহার কোন উত্তর নাই, তবে চেহারা ফ্যাঁকাসে হইয়া গেছে। ভয়ানক কিছু নাতো ? সে হাতের ঈশারায় দেয়ালের অপর পাশে দেখিতে বলিল।আমি কোনমতে ঝুলিয়া উকি দিলাম, আমার হাত পা অবশ হইয়া আসিল, সামনে যাহা দেখিতে পাইতেছি তাহা বলিবার সাহস হারাইয়া ফেলিয়াছি, মুখে উচ্চারন করিলে না ঐ বিপদ আমাকে ধরিয়া ফেলে !! চাতক লম্ফ দিয়া দেয়ালে উঠিয়া সেও স্থির হইয়া গেল, মুখটাকে কান্নার মত করিয়া কহিল সবাই পালাও !! ব্যস সবাই আবার দে ছুট !! কি দেখিয়াছিলাম আমরা সেই রাতে ? যাহা দেখিয়া সকলে বেহুশ হইবার মত অবস্থায় উপনীত হইয়াছিলাম ?

ছুটিতে ছুটিতে মসজিদের কাছে আসিয়া ক্ষান্ত দিলাম, মসজিদের দেয়াল শক্ত করিয়া ধরিয়া কাঁপিতে লাগিলাম, মনে মনে বলিতে লাগিলাম আল্লাহর ঘরে সামনে অশুভ কিছু আসিতে পারে না। এইখানে বলিয়া রাখা প্রয়োজন আমাদের মাঝে ভয় বলিয়া কিছু ছিল না কোনদিন কিন্তু সেই রাতের কথা আজীবন মনে রহিবে। মামুন বলিয়াছিল যে সে দেখিয়াছিল একটি অপূর্ব রুপসি মেয়ে লাল শাড়ি পড়িয়া দুইটি কবরের মাঝে দাঁড়াইয়া তাহাকে ইশারা করিয়াছিল, আমি দেখিয়াছিয়ালাম একটি মেয়ে লাল শাড়ি পড়িয়া দীর্ঘ কেশ ছাড়িয়া অগ্নির ন্যায় চক্ষু দিয়া আমাকে দেখিতে ছিল। চাতক দেখিয়াছিল লাল শাড়ি পড়া সেই মেয়েটি নাকি তাহাকে ইশারা করিয়াছিল। যাই হউক লাল শাড়ি পড়া কাউকে আমরা সেই রাতে দেখিয়াছিলাম তাহাতে সন্দেহ নাই, তবে আমাদের মনে ভয়ের উদ্রেক কেন হইল সেইটা ছিল চিন্তার বিষয়।

পরেরদিন শুনিলাম কাজীর সাহেবের একমাত্র মেয়ে বিপুল অর্থ লইয়া কাহার সাথে যেন ভাগিয়া গেছে, তাহার কোন হদিশ পাওয়া যাইতেছে না। তবে সেই পলায়নপর কন্যা সেই রাতে কবর স্থানে আশ্রয় লইয়া ছিল ? আমরা কি তাহাকে দেখিয়া ছিলাম ? অনেক দিন পরে সেই আপুকে ঢাকা ফার্মগেটে দেখিয়া এই প্রশ্নটি করিয়া ছিলাম তিনি মুচকি হাসি দিয়াছিলেন মুখে কিছু বলেন নাই। তবে কি সেই রাতের রহস্যময়ী তিনিই ছিলেন ? জানি না তবে আজো সেই রাতের কথা মনে হইলে গায়ে কাটা দিয়া উঠে।